অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে একটি ভুয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাভিশনের লোগো ব্যবহার করে তৈরি একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদেরকে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না, অর্থ ছাড়ের কথা উঠলেই ২০০১ ২০০৬ সালের কথা বলে। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে টাকা নেওয়া সম্ভব না।’ তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এই বক্তব্যকে ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, বাংলাভিশন এমন কোনো বক্তব্য বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এমন কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ফটোকার্ডটি বিভ্রান্তিকর।
অনুসন্ধানের সময় ফটোকার্ডটিতে বাংলাভিশনের লোগো এবং ৫ অক্টোবর তারিখ দেখা যায়। এরপর বাংলাভিশনের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত বক্তব্যের কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
তবে ৫ অক্টোবর বাংলাভিশনের ফেসবুক পেজে অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যসংবলিত একটি আসল ফটোকার্ড পাওয়া যায়। সেখানে ‘আইএমএফের আর কোনো শর্ত মানবে না বাংলাদেশ, ঋণের চুক্তি বাতিল’ শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটির ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সঙ্গে বাংলাভিশনের ওই ফটোকার্ডের মিল রয়েছে।
তবে প্রচারিত ফটোকার্ডে মূল শিরোনাম পরিবর্তন করে অর্থমন্ত্রীর নামে নতুন বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবহৃত শিরোনামের ফন্টেও পার্থক্য দেখা গেছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাভিশনের একটি আসল ফটোকার্ড সম্পাদনা করে নতুন বক্তব্য সংযুক্ত করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া অর্থমন্ত্রীর নামে প্রচারিত বক্তব্যের পক্ষে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাভিশনের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটিকে আসল সংবাদ হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত ওই বক্তব্যটি তার প্রকৃত মন্তব্য নয়। বাংলাভিশনের একটি পুরোনো ফটোকার্ডের নকশা ও ছবি ব্যবহার করে সেটি সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি সম্পাদিত এবং এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর নামে ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।










