কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতার কাজে পথশিশুকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী, যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশনের কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিতভাবে ভাসমান ও ছিন্নমূল শিশুদের দিয়ে প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার করাচ্ছেন।
সোমবার রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ঝাড়ু দিতে দেখা যায়। বই খাতা নিয়ে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর বয়সে একটি শিশুকে রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখে উপস্থিত কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিঠু মিয়াসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপন মিয়া নিজেকে এক ধরনের তদারককারীর ভূমিকায় রেখে ভাসমান ও পথশিশুদের দিয়ে প্রায়ই প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কারের কাজ করিয়ে থাকেন। তাদের দাবি, শিশুদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে যুক্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন তার মা অসুস্থ থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ে কাজে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে শিশুটি কীভাবে প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কারের কাজে যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য ভিন্ন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু ইউছুফ জানান, আপন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় অনেক সময় নিজে উপস্থিত থেকে অন্য লোকের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করিয়ে থাকেন। তবে ঘটনার দিন তিনি নিজে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্টেশনমাস্টারের জানা নেই বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হলে তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্টেশনে রাত কাটায়, তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
শিশুদের দিয়ে শ্রম করানোর পরিবর্তে তাদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পথশিশুদের শুধু সাময়িকভাবে কাজে যুক্ত না করে তাদের জীবনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্টেশন এলাকায় ভাসমান শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।










