বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮ জন।
রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ২৩৬ জন, চট্টগ্রামে ২৯৩ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৫৩০ জন, খুলনায় ৩০৪ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, রংপুরে ৮৪ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং সিলেটে ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও ১ হাজার ৭৯৬ জন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। মে মাসে মারা যান একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন। তবে সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ওই মাসে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান ১৪৮ জন, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই আরও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেও দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্পষ্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।










