আনন্দ পাঠশালার ছুটির ঘণ্টা বাজতেই সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হলো বিজয়। গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদের পাশে এক পথচারী কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে যেতে যেতে বেঁচে গেলেন। তাঁর পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেলেও বিজয় ও তার বন্ধুরা ঘটনাটি দেখে হাসাহাসি করতে লাগল। এক বয়স্ক ব্যক্তি বিজয়কে এ জন্য বকাঝকাও করলেন।
পরের দিন পুকুরপাড়ে একই ঘটনা ঘটল। এক গ্রাম্য বধূ কোমরে মাটির কলস নিয়ে পানি আনতে এসে কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে গেলেন। তাঁর কলসটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। ব্যথা ও কষ্টে তিনি কাঁদতে লাগলেন। বিজয় ও তার বন্ধুরা প্রথমে হাসলেও একসময় বিজয় চুপ হয়ে গেল।
বাড়ি ফেরার পথে বিজয়ের মনে পড়ল তার সহপাঠী পলাশের কথা। পাঁচ দিন ধরে পলাশ পাঠশালায় আসছে না। বিজয়ের ধারণা, তার কাছে একটি বল চাওয়ায় হয়তো পলাশ রাগ করেছে। কিন্তু বন্ধু নাসির তাকে মনে করিয়ে দিল, পলাশ খুব ভালো ছেলে। সামান্য একটি বলের জন্য সে রাগ করে থাকতে পারে না।
খেলার মাঠে গিয়েও বিজয়ের মন বসল না। পলাশের জন্য তার মন অস্থির হয়ে উঠল। সে জানত, কেউ কলার খোসায় পিছলে পড়ে গেলে পলাশ কখনো তা দেখে হাসত না।
এমন সময় রহমান চাচা এসে বিজয়কে পলাশের খবর জানাতে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে বিজয় দেখল, পলাশের দুই পায়েই ব্যান্ডেজ বাঁধা। পড়ে গিয়ে তার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।
রহমান চাচা জানালেন, পলাশ বিজয়কে উপহার দেওয়ার জন্য একটি বল নিয়ে তাদের বাড়ির পথে যাচ্ছিল। কিন্তু রাস্তায় ফেলে রাখা কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে সে গুরুতর আহত হয়েছে।
বন্ধুর এই অবস্থা দেখে বিজয় কান্নায় ভেঙে পড়ল। সে স্বীকার করল, এত দিন ধরে সে-ই রাস্তায় কলার খোসা ফেলে রাখত। নিজের ভুল বুঝতে পেরে রহমান চাচার কাছে ক্ষমা চাইল।
পলাশকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বিজয় প্রতিজ্ঞা করল, আর কখনো রাস্তায় কলার খোসা ফেলবে না।
শিক্ষা: অসতর্কভাবে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা অন্যের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। নিজের আনন্দের জন্য অন্যের কষ্টকে কখনো উপহাস করা উচিত নয়।










