প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার নতুন চিত্র তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এখন দুইজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নতুন নিয়োগ পাওয়া হুমায়ুন কবির। ফলে প্রথমবারের মতো একটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে তিনজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার অধীনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির। একই মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকায় দায়িত্ব বণ্টন ও কাজের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না।
এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নাসিমুল গনি বলেন, ‘এক মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে তো অসুবিধা নেই।’
এর আগে হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে হুমায়ুন কবিরের। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকাণ্ডেও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারত সফর নিয়েও হুমায়ুন কবির সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে এবং আলোচনার ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে। এ নিয়ে সরকারের কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতিতে হুমায়ুন কবিরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই তাকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।










