রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় আহত একটি কুকুরকে মারধর করে হত্যার পর বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রাণীপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জামিয়া মুহাম্মদিয়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধানের সংশ্লিষ্টতা ও নির্দেশের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর আহত কুকুরটিকে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসা প্রধানের নির্দেশ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জামিয়া মুহাম্মদিয়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা, আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা এলাকার আশপাশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ির ধাক্কায় কুকুরটি গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা বা নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পরিবর্তে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজনের মাধ্যমে কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওচিত্র থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ওই ভিডিওচিত্রে কুকুরটিকে সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওচিত্রের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রাণীপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের অনেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, কুকুরটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে আহত কোনো প্রাণীকে মারধর বা নদীতে ফেলে না দিয়ে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও প্রধানের নাম উঠে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
তবে মাদ্রাসা প্রধান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার আগে তা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আহত কুকুরটির সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।










