মুক্তির দ্বিতীয় দিনেই বক্স অফিসে বড় ধাক্কা খেয়েছে অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান অভিনীত সিনেমা ‘হাইওয়ান’। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে ছবিটির আয় আরও কমেছে। ফলে মুক্তির দুই দিন পরেও ভারতে সিনেমাটির মোট আয় ১০ কোটি রুপি পেরোতে পারেনি।
বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ‘হাইওয়ান’ ভারতীয় বক্স অফিসে আয় করেছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এদিন সিনেমাটির সার্বিক হল দখলের হার ছিল ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সন্ধ্যার শোগুলোতে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ১৬ শতাংশ।
মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটি আয় করেছিল ৩ কোটি রুপি। দ্বিতীয় দিনের ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি যোগ হওয়ার পর ভারতে ‘হাইওয়ান’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে ছবিটির আয় প্রথম দিনের তুলনায় আরও কমেছে।
‘হাইওয়ান’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও পর্দায় একসঙ্গে হাজির হয়েছেন অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান। এর আগে ‘তাশান’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এই দুই অভিনেতা। ফলে তাদের পুনর্মিলন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে মুক্তির পর বক্স অফিসের আয় সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না।
অক্ষয় কুমারের সাম্প্রতিক সিনেমাগুলোর সঙ্গে তুলনা করলেও ‘হাইওয়ান’-এর শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির প্রথম দিনের রিপোর্টেড ভারতীয় গ্রস আয় ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ রুপি। এই আয় অক্ষয়ের ২০০৭ সালের সিনেমা ‘ভুল ভুলাইয়া’র উদ্বোধনী আয়ের চেয়েও কম। ওই সিনেমাটি প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ রুপি আয় করেছিল বলে বক্স অফিস ইন্ডিয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাইফ আলি খানের ক্ষেত্রেও ‘হাইওয়ান’-এর প্রথম দিনের আয় তার ২০০৭ সালের সিনেমা ‘তা রা রাম পুম’-এর কাছাকাছি ছিল। ছবিটি প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ রুপি আয় করেছিল।
এদিকে বক্স অফিসে ‘হাইওয়ান’-এর সামনে প্রতিযোগিতাও কম নয়। মুক্তির ৩৭ দিন পরও ‘হনুমান অংশ’ ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। অন্যদিকে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ভারতে সিনেমাটির মোট আয় প্রায় ১৬০ কোটি ৪৫ লাখ রুপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হাইওয়ান’-এর গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্যাম। তিনি একজন দৃষ্টিহীন কেয়ারটেকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রধানকে হত্যার অভিযোগে তিনি ফেঁসে যান। এরপর প্রতিশোধ নিতে খুনি পরশুরাম যখন প্রধানের মেয়ে নন্দিনীর পিছু নেয়, তখন শ্যাম পুলিশকে এড়িয়ে নন্দিনীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। সেই যাত্রায় নন্দিনীকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য জানতে পারেন শ্যাম, যা গল্পের মোড় বদলে দেয়।
সিনেমাটির নির্মাণে প্রায় ১৩০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১১৫ কোটি রুপি প্রযোজনা এবং আরও ১৫ কোটি রুপি প্রিন্ট ও বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে। এই বড় বাজেটের সিনেমা শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কতটা সাফল্য পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।










