ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে গিয়ে হামলা ও হয়রানির অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ইতালিতে পাওয়া নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বাঁধন দলটির নেতাদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আওয়ামী লীগকে একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সাময়িকভাবে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে তারা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে। তাই এমন রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা কর্মকৌশল গ্রহণ করা উচিত নয়, যার কারণে পরবর্তীতে দলটিকে বিব্রত বা লজ্জিত হতে হয়।
বাঁধনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। সেই রূপরেখা তৈরির সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
ভেনিসে সিনেমাটির প্রদর্শনী ঘিরে বাঁধন ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে। সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাইরে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় এবং তার মোবাইল ফোনও হাত থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ওই সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী বাঁধনের পাশে দাঁড়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
এদিকে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে প্রদর্শিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দেশে ফেরার পর বাঁধনের বক্তব্য এবং ভেনিসের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।










