হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো নিজেদের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর আগ্রহও নাকচ করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলা স্থগিত করার পর ইরানের এই অবস্থান নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
টানা ১৩ দিনের সংঘাতের পর ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিত করলে ইরানও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না। তবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতির বাস্তব কার্যকারিতা এখন পরীক্ষা করছে তেহরান। এদিকে হামলা বন্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য নতুন সামরিক সাফল্য অর্জনের সুযোগ কমে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাওয়াও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার অনুরোধ করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কূটনীতির পথ বন্ধ হয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনা শুরু করার কোনো উদ্যোগ ইরান নেয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, নির্ধারিত নৌপথে চলাচল নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় তদারকি করার অধিকার তাদের রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েন এখনো অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় নির্ভর করবে কূটনৈতিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।

