সমাজের প্রান্তিক ও পথশিশুদের জীবন, স্বপ্ন এবং মানবিক অনুভূতিকে কেন্দ্র করে নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কাজল ব্যানার্জী। ‘রাজকুমার’ শিরোনামের গানটিতে উঠে এসেছে এমন এক চরিত্রের গল্প, যার কোনো রাজ্য নেই, নেই সিংহাসন কিংবা মুকুট। তবুও ভালোবাসা, স্বপ্ন ও মানবিকতার অদৃশ্য সাম্রাজ্যে সে যেন একজন রাজকুমার।
দেশের অন্যতম অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস) প্রকাশ করেছে গানটি। ‘রাজকুমার’-এর কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন কাজল ব্যানার্জী। সংগীতায়োজন করেছেন রোজেন রহমান। অন্যদিকে গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন শুভব্রত সরকার। ভিডিওতে অংশ নিয়েছে একাধিক পথশিশু। ফলে গানটির দৃশ্যায়নেও সমাজের অবহেলিত শিশুদের জীবন ও স্বপ্নের একটি মানবিক চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
শৈশব থেকেই গানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল কাজল ব্যানার্জীর। তবে সংগীতের পথে তাঁর যাত্রা খুব সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গানকে ভালোবেসে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেছেন তিনি। নতুন গান প্রকাশের পর নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন এই শিল্পী।
কাজল ব্যানার্জী বলেন, ‘রাজকুমার’ গানটি প্রকাশে ডিএমএসের পৃষ্ঠপোষকতা তাঁকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার সাহস দিয়েছে। একই সঙ্গে সংগীতজীবনে যাঁরা তাঁকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের সংগীতজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের মধ্যে মির্জা খায়রুল হোসেন মনু, প্রয়াত রুমু ভাই, সুইট ভাই, মিতা বিশ্বাস ও নন্দ দাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন কাজল। মির্জা খায়রুল হোসেন মনুকে নিজের জীবনের অন্যতম আলোকবর্তিকা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর কাছ থেকেই স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
গানটি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কাজল ব্যানার্জী। তাঁর মতে, গানটির মাধ্যমে শুধু একটি সংগীত পরিবেশন নয়, বরং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্ন ও অনুভূতিকে দর্শক-শ্রোতার সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘রাজকুমার’ এখন ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে। গানটির ভিডিওতেও পথশিশুদের অংশগ্রহণ থাকায় এটি শ্রোতাদের পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও আলাদা আবেদন তৈরি করছে।










