ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা ও রোগীর জন্য শয্যা বাড়ানোর ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা কিংবা চিকিৎসাসুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও একটি মানুষের জীবন হারিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না।’ এজন্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর, কর্মস্থল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদে এ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে মানুষের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে শুধু কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব স্থানে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জলাশয়গুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। যেসব এলাকা এখনো কর্মসূচির আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেসব স্থানেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জেলা প্রশাসনের এই কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য এবং তরুণরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ওই অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জেলার বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।










