ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের ওপরের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়।
নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন হাজেরা বেগম, শাহজাহান, রমজান, জাহানারা ও কুলসুমা। নিহত শিশুটির পরিচয় ও বয়স তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভবনের ওপরের অংশে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাণভয়ে অনেকে একসঙ্গে অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সিঁড়িতে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান। এতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ময়মনসিংহের পাঁচটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো ফিরে গেলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের লিফটের নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকা যন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত বোর্ডে অতিরিক্ত উত্তাপ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি জানান, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে প্রচুর ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের চিকিৎসা ওয়ার্ডগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি আতঙ্কের মধ্যে সিঁড়িতে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।










