সারাদেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো লুকোচুরি করতে চায় না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে মানুষ কষ্টে আছে উল্লেখ করে তিনি নিজের মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা তার দাবি অনুযায়ী গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ। এছাড়া আদানি গ্রুপের কাছ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। একটি এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার কারণেও গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বড় সংকট তৈরি হয়েছিল।
সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রির সুযোগ এবং সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের কথাও সংসদে জানান প্রতিমন্ত্রী।










