যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে নীতিনির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, টেক্সাস, আইওয়া ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটিতে দীর্ঘদিন ধরে সিনেট নির্বাচনে জয় পায়নি দলটি।
মিনেসোটা ও মিশিগানে ভোট গণনা চলার পাশাপাশি মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। অন্যদিকে, ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাটদের আসন দখলে ব্যর্থ হয়েছে রিপাবলিকানরা।
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেটে ৫৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সে সময় ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি এবং ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও প্রশাসনের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।
রিপাবলিকানদের প্রার্থী বাছাইয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপও দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার জয় পান। টেক্সাসেও ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো জয় পেয়েছেন বলে এপি জানিয়েছে।
এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে দলটির প্রভাব বাড়বে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)










