বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তার এই বক্তব্য আসে।
মোহেবি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তার দাবি, মার্কিন জনগণের কাছে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছানো দরকার এবং এ বিষয়ে ইরান যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের তুলনায় খুবই কম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও বিদেশে সামরিক ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মোহেবি একই বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দাবি করেন, তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তাদের সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে মোহেবি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের নীতির সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সম্পদ ও আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযোগ ইরানের পক্ষের বক্তব্য; যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দাবিগুলো এর সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।
মোহেবি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টাও চলছে। আল জাজিরার ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে আলোচনা চলছে।










