হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযানটিকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের কাছে এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন এ হামলা চালানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন উড়োজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী একটি স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ?
কেশম পারস্য উপসাগরে ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এটি হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটির সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ এলাকায় সংঘাত বাড়লে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, পরিবহন ও বিমা ব্যয় এবং জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। হামলার খবরের পর এশিয়ার বাজারে তেলের দামও বেড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
আগেও একাধিকবার হামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসেও কেশম দ্বীপ এবং আশপাশের এলাকায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এসব অভিযানে রাডার, ড্রোন পরিচালনাকেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মার্কিন পক্ষ দাবি করেছে।
আগস্টের একটি হামলায় বেসামরিক বাড়ি ধ্বংস হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে হামলায় শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সীমিত হামলা, বড় সংঘাতের আশঙ্কা
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানগুলো সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকায় যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পাল্টা হামলা ও সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখন ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্র: নিউজ ডট আজারবাইজান, রয়টার্স, এনবিসি নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমস।










