ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি হওয়া কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন, তবুও দেশের মানুষের আহ্বানে দেশে ফিরতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে কিংবা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। তারপরও তিনি দেশে ফিরতে চান, কারণ তার বিশ্বাস দেশের মানুষ তাকে চায়।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি ভারত চলে যান। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমানে ভারতের একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। তার দাবি, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।
গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তার সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দমন ও একতরফা নির্বাচনের অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের অনেকটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও নাকচ করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল। তার ভাষ্য, এটি শুধু ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত অভিযান।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ক্ষমতা তার লক্ষ্য নয়; মানুষের সেবাই তার মূল উদ্দেশ্য। আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। পাশাপাশি সংকটকালীন সিদ্ধান্তগুলোকে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

