চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এক প্রবাসীর বাড়িতে আগুন দিয়েছেন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটির সঙ্গে চাঁদাবাজি কিংবা বিএনপির নেতাকর্মীদের আগুন দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিওকে ভিন্ন দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করে সেখানে দৈনিক আজাদীর লোগো দেখা যায়। ভিডিওতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল হিসেবে বোয়ালখালীর নাম উল্লেখ করা হলেও আগুন লাগার কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার তথ্য সেখানে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীর ফেসবুক পেজে একই ঘটনার মূল ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পোস্টেও ঘটনাটি বোয়ালখালীর বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে সেখানে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ ছিল না।
পরবর্তীতে চট্টগ্রামের স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিভয়েস২৪-এর একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডটি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরনদ্বীপ ইউনিয়নে ঘটে। বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সংবাদভিত্তিক পেজ চট্টলা কণ্ঠেও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানেও অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব প্রতিবেদনের কোথাও চাঁদাবাজি, চাঁদা না দেওয়া বা বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা আগুন দেওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দাঁড়িয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ অর্থ ও বস্ত্রসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। যে ভিডিওতে বোয়ালখালীতে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সেটিকে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রবাসীর বাড়িতে আগুন দিয়েছেন—এমন একটি রাজনৈতিক দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে বিএনপির চাঁদাবাজি ও আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস বা শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










