স্বাস্থ্য ডেস্ক | বাংলা গেজেটা
জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আর্দ্র আবহাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাই ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত থাকতে রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মশার বিস্তার রোধেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবপিকটাস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত মশা কাউকে কামড়ালে ভাইরাস তাঁর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান ধরন রয়েছে। এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য ধরনে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়বার সংক্রমণে গুরুতর জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
ডেঙ্গু হলে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও বিপদের আশঙ্কা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
চিকিৎসা ও পরীক্ষা
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। জ্বর কমাতে চিকিৎসকের নির্দেশনায় প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেগুলো গ্রহণ করা উচিত নয়।
রোগের সময়কাল ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক এনএস১ অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এবং সম্পূর্ণ রক্ত গণনা বা সিবিসি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্লাটিলেট কমলেই যে রক্ত বা প্লাটিলেট দিতে হবে, তা নয়। রক্তক্ষরণ, রোগীর শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক এ সিদ্ধান্ত নেন। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত হওয়ায় সাধারণভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও ছাদের ড্রাম নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং জমে থাকা পানি সরাতে হবে। দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার, শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং প্রয়োজনমতো মশা প্রতিরোধক ব্যবহারও সহায়ক।
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু সাধারণ স্পর্শ, একই বিছানায় ঘুমানো বা একই বাসন ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ায় না; মূলত সংক্রমিত মশার কামড়েই ছড়ায়। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।










