বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনার আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এমন কর্মকাণ্ড করেছেন যে তাকে শুধু ফ্যাসিস্ট নয়, অনেকেই এখন ‘মাফিয়া’ বলছেন। ফলে দেশে ফিরে এসে আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার কোনো সুযোগ তার নেই। দেশের জনগণ তাকে আর গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ফেসবুকে কিছু মিছিল বা কর্মসূচি দেখে দেশে আওয়ামী লীগের পক্ষে পরিবেশ তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দৃশ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আওয়ামী লীগের ভেতরেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন—এমন প্রচারণা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বাস্তবে জনগণের মধ্যে তার জন্য কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়মিত আদালতে যাতায়াত করতে হলেও তিনি মনোবল হারাননি। তরুণদের সাহস জোগানো নিজের প্রজন্মের দায়িত্ব ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন ও সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরি হলে তা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে সস্তা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জাকসু নেতৃবৃন্দ, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।










