ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় বের করতে না পারলেও দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে শরীর সচল রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উপকার পাওয়া সম্ভব। পা নাড়ানো, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, ঘরের কাজ করা কিংবা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার মতো সাধারণ কর্মকাণ্ড হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করতে সহায়তা করতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত ব্যায়ামের বাইরে দৈনন্দিন জীবনে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বলা হয় ‘ইনসিডেন্টাল এক্সারসাইজ’। এর মধ্যে ঘরের কাজ, হাঁটাচলা, বাগান করা এবং বসে থাকার সময় শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের মতো কর্মকাণ্ডও রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক আনান্থা নারায়াননের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ের পেশি কম সক্রিয় থাকে। এতে রক্ত থেকে গ্লুকোজ অপসারণ ও স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে সহায়তাকারী পেশির সংকোচন কমে যায়। অন্যদিকে, বসে থাকার সময় পা নাড়ানো, কাঁধ ঘোরানো কিংবা বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করলে পেশির সক্রিয়তা কিছুটা বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্থির বসে থাকার তুলনায় পা ঝাঁকানো বা এ ধরনের ছোট নড়াচড়ায় বেশি শক্তি ব্যয় হয়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দিনে মাত্র চার মিনিটের সংক্ষিপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় থাকার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার, বাজারের ব্যাগ বহন, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটা কিংবা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করা এবং ছোট ছোট সুযোগে শরীর সচল রাখা। এসব অভ্যাস নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে। তবে এগুলো পরিকল্পিত ব্যায়ামের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়।










