কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাতনা করানোর পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের কয়েকজনের শরীরে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। শিশুদের চিকিৎসা দিতে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতাল থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম দ্বীপে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার ৭ অক্টোবর সকালে টেকনাফ থেকে যাত্রা করে মেডিকেল টিমটি সেন্টমার্টিনে পৌঁছে। সেখানে চিকিৎসকরা অসুস্থ শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণও খতিয়ে দেখা হবে।
টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানান, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে তিন সদস্যের দল পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধান করবে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিনের একটি অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খাতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ময়মনসিংহের আল মুগিস হাসপাতালের একটি মেডিকেল টিম অংশ নেয়।
কর্মসূচির দুই দিনের মধ্যে সেখানে খাতনা করানো অন্তত ৫০ শিশু পরবর্তী সময়ে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের মতো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন হাসপাতালে যায়। শিশুদের কয়েকজনকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একসঙ্গে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর শিশুদের চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল টিম পাঠানোর পাশাপাশি খাতনা কর্মসূচির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খাতনা করার পর শিশুদের অসুস্থ হওয়ার পেছনে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পর তাদের কারও হাসপাতালে ভর্তি বা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শিশুদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। মেডিকেল টিমের পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা নিরাপত্তা যথাযথভাবে অনুসরণ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।










