ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে দেশটির প্রযুক্তি খাত, ব্যাংকিং, ই কমার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের তিনটি ডেটা সেন্টার, দেশটির বৃহত্তম ব্যাংক সারব্যাংকের একটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকনতাক্তের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্লাউড সেবা ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছে।
ডেটা সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা, অবস্থান শনাক্তকরণ, রাইড শেয়ারিং এবং ইয়ানডেক্সের ভার্চ্যুয়াল সহকারী আলিসাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিসেবায় প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেটাবেসে প্রবেশের সমস্যায় দেশটির কিছু আরবিট্রেশন আদালতের কার্যক্রমও স্থগিত বা বাতিল করতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটা সেন্টার আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে একাধিক সেবা একসঙ্গে ব্যাহত হতে পারে। ইন্টারনেট প্রোটেকশন সোসাইটির প্রধান মিখাইল ক্লিমারেভের মতে, এ ধরনের ক্ষতি রাশিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দিতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নিক রেইনার্সও ডেটা সেন্টারকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কঠোর ডেটা সংরক্ষণ নীতির কারণে অনেক তথ্য দেশের অভ্যন্তরে রাখতে হয়। ফলে স্থানীয় ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেবা পুনরুদ্ধার জটিল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও অবকাঠামো মেরামতও ব্যয়বহুল হতে পারে।
তবে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।










