শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সামাজিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, অর্থের অভাবে দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আফরোজা খানম রিতা বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সুন্দর ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার মাধ্যমে শুধু ব্যক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো নয়, বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একটি শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষার বিনিময়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য হলো আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনার সুযোগ পায়।










