শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার রাত থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে দেশের প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই শিল্প খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিবেশ ধরে রাখতেও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে সরকার দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য পাঁচটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর পাশাপাশি একটি ল্যান্ডবেজ টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা বাড়লেও যাতে শিল্প ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থায়ী সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ ছাড়া শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়—এ বাস্তবতাও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।










