ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনে করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি কেন এমনটা মনে করেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রচারিত ওই টকশোর একপর্যায়ে উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, অনেকে মনে করেন আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক সাহস পাচ্ছে, তার পেছনে রুমিন ফারহানার বক্তব্যও ভূমিকা রাখছে। তার গবেষণা দলও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে রুমিনের ইতিবাচক বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছে বলে জানান তিনি।
এর জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বাংলাদেশের একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মী এবং একই সঙ্গে একজন আইনজীবী। তার পরিবারেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। ফলে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নিজের পারিবারিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নেন।
শেখ হাসিনা কেন দেশে ফিরতে পারেন—এ বিষয়ে তিনি মূলত তিনটি কারণ তুলে ধরেন।
প্রথমত, শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন রুমিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক কারণে এক রাতে হত্যা করা হয়েছিল। এই পারিবারিক ইতিহাস তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনার নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় অবস্থানেই শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছেন বলে উল্লেখ করেন রুমিন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
তৃতীয় কারণ হিসেবে শেখ হাসিনার বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শেখ হাসিনা যদি ভারতের মাটিতেই জীবনের শেষ সময় কাটান, তাহলে তার পরিবারের ইতিহাস, রাজনৈতিক ত্যাগ এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে।
রুমিন বলেন, শেখ হাসিনার পেছনে তার বাবা, পরিবার এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। তিনি নিজে শেখ হাসিনার জায়গায় থাকলে দেশে ফেরার চেষ্টা করতেন বলেও মন্তব্য করেন।
তার এই বক্তব্যের পর শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রুমিন ফারহানার বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অবস্থান হিসেবেই এসেছে।










