শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, সরকারি সেবার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ইতালিজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিবাদেও সরব হন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকেরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির ৪০টির বেশি শহরে বিক্ষোভের ডাক দেয় শ্রমিক সংগঠন ইউনিয়ন অব বেসিক ট্রেড ইউনিয়নস। সংগঠনটির আহ্বানে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।
বেশির ভাগ এলাকায় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে কেন্দ্রীয় সরকারের স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
রাজধানী রোমে কলোসিয়ামের কাছে বড় মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা সেখানে তাঁবু খাটিয়ে সপ্তাহান্তজুড়ে অবস্থানের ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় একটি দল পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএনএসএর প্রতিবেদনে জানানো হয়।
মিলানে বিক্ষোভকারীরা শহরের রিং রোডে মিছিল করে পলিটেকনিকো দি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কর্মসূচি শেষ করেন। এ সময় কয়েকটি স্থানে মশাল জ্বালিয়ে আগুন ধরানোর ঘটনাও ঘটে।
জেনোয়া বন্দরে প্রায় ১৫ হাজার বন্দরশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তাঁরা বিভিন্ন সংঘাতে ব্যবহারের জন্য বন্দর দিয়ে অস্ত্র রপ্তানির বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন সংঘাতে নাবিকদের প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরেন।
চলতি মাসের শুরুতে ইতালিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় কয়েকটি স্থানে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এবারও কিছু এলাকায় উত্তেজনা দেখা গেলেও অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও নানা সামাজিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ চলছে। ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াতেও সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।










