যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ধারণার চেয়েও দুর্বল বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি। বুধবার (১২ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে নকদি বলেন, সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইরানের যে ধারণা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর তাদের সেই ধারণা বদলেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাদের প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি দুর্বলতা দেখিয়েছে।
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান সংঘাতে বিজয়ী অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের অভিজ্ঞতাও তত বাড়ছে।
নকদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাত পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা ইরানের আগে খুব বেশি ছিল না। ফলে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে মার্কিন বাহিনীর কৌশল, সক্ষমতা এবং প্রতিক্রিয়ার ধরন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে ইরান। গত পাঁচ মাসের চলমান পরিস্থিতিতে তারা সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইরানকে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ এবং নিজেদের কৌশল পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে নকদির বক্তব্য মূলত ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তার দাবি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বা চলমান সংঘাতে দেশটির বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে তার মন্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। একইভাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নকদির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
নকদির বক্তব্যে স্পষ্টতই ইরানের আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানকে প্রতিপক্ষের কৌশল সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও উভয় পক্ষের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য ও স্বাধীন সূত্রের প্রয়োজন রয়েছে।










