রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেঁচে ফিরেছেন ৪৯ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো। গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর নিজের ডান পা নিজেই কেটে ফেলতে বাধ্য হন তিনি। শেষ পর্যন্ত গত ৪ অক্টোবর একটি ভারী ড্রোনের সঙ্গে ঝুলিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে রুশ ড্রোন হামলায় ভ্লাসেনকোর বাঁ পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই হামলায় তাঁর ডান পায়েও গুরুতর আঘাত লাগে। চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে তিনি একটি বোমায় বিধ্বস্ত স্কুল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আশ্রয় নেন।
আঘাতের কারণে তাঁর ডান পায়ের ক্ষত পচে যেতে থাকে এবং হাড় বেরিয়ে আসে। একপর্যায়ে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজের ছুরি দিয়ে পা কেটে ফেলেন তিনি। এরপর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বেঁধে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
ভ্লাসেনকো জানান, ওই পরিস্থিতিতে তাঁর বেঁচে ফেরার আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। খারকিভের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলাম।’
তাঁকে উদ্ধারে প্রথমে চালকবিহীন স্থলযান পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সেগুলো রুশ ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনী ছয় পাখার একটি ভারী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করে। নিরাপত্তা বেল্টের সাহায্যে ভ্লাসেনকোকে ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত করে প্রায় ৭০ মিটার উচ্চতায় তুলে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
উদ্ধার অভিযানে ছোট ড্রোনের পাশাপাশি গোলন্দাজ বাহিনীও সহায়তা করে। ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনের সাহায্যে আহত সেনাকে এভাবে উদ্ধারের ঘটনাটি নজিরবিহীন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার সম্মুখসারির পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। নজরদারি ও হামলার কারণে আহত সেনাদের স্থলপথে উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভ্লাসেনকোর উদ্ধার অভিযান এবং তাঁর দুর্দশার বিষয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী নিশ্চিত করলেও তাঁর বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।










