বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সাত সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদালতের আদেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত, সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলকে। সদস্য হিসেবে থাকছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের মহাপরিচালক এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি। এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব থেকে রাষ্ট্রের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কমিটি। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে অর্থ আদায়ের কার্যকর পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের উপায় নির্ধারণ করা হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের অনুসন্ধান, অর্থের লেনদেনের গতিপথ শনাক্তকরণ এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একাধিক সরকারি সংস্থা কাজ করে। এসব কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোই নতুন কমিটি গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সরকার আশা করছে, কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।










