বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানি উভয় দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজও বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর করতে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে জার্মান বিনিয়োগ ও বিশেষজ্ঞ সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
স্পিকার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মান বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জ্বালানি খাতকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









