রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, রাকসু কার্যালয়ে হামলা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি জানান, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তাকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং অস্ত্র থাকার কথাও বলেন। অভিযোগের পর প্রক্টর কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে আনাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রাকসুর দাবি, পরদিন পুনরায় বৈঠকের সময়ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আনাস ও তার সহযোগীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব গুরুতর জখম হন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে আশ্রয় নিলেও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় রাকসু ছয় দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নারী শিক্ষার্থীকে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, রাকসু কার্যালয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার।
রাকসুর নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা, নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি হুমকি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় তারা আইনসম্মত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তদের দ্রুত আটক করা হলে পরবর্তী সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো। প্রশাসনের বিলম্বিত পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

