বিশ্বকাপ শেষ হলেও মাঠের বাইরের বিতর্ক থামেনি। ফাইনালের পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করেও তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট চলাকালে একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন। রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত এই প্রদর্শন ফিফার নিয়মবিরোধী হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুধু ওই ব্যানার নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে বৈষম্যমূলক স্লোগান, অনুপযুক্ত অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচ শুরুতে বিলম্ব, নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন, দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপ এবং অনুচিত বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের অপব্যবহার, দলের অসদাচরণ, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ম্যাচের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা, সতর্কবার্তা বা অন্যান্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ ব্যানারটি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। সে কারণেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে ফিফা।
উল্লেখ্য, ওই সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির দারুণ নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা জয় তুলে নেয়। মেসির অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেস গোল করে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন। তবে মাঠের সেই সাফল্যের পাশাপাশি এখন শৃঙ্খলাজনিত তদন্তও আর্জেন্টিনার জন্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
