দেশের বাজারে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার পর এবার দুধ, চিনি ও সয়াবিন তেলেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক গবেষণায় উঠে আসা এই তথ্য জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গবেষকদের মতে, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের বিভিন্ন ধাপে প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসার কারণেই এসব পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শুধু সয়াবিন তেল থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা আরও বেশি, বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রতি ১০ মিলিলিটার প্রক্রিয়াজাত দুধে গড়ে ১৫৬টি এবং কাঁচা দুধে ৯৩টির বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চিনি পরীক্ষায় প্রতি কেজি ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে প্রায় ৪০৩টি কণা পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা রক্তে প্রবেশ করে পরিপাকতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য ও কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মানুষের শরীরে এর নির্দিষ্ট প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, বিএসটিআই জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারও এটিকে একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ কমানোর প্রধান উপায়।

