ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দেশের কোনো মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে সতর্ক বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় বিভাজন বা অন্য কোনো ধরনের বিভাজনে সরকার বিশ্বাস করে না এবং কাউকে বিভাজন সৃষ্টি করতেও দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরামপুর বারোয়ারী মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। প্রত্যেকে যেন নিজের ধর্ম, পেশা ও কর্ম স্বাধীনভাবে এবং নির্ভয়ে পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দেশে হিংসা, বিদ্বেষ, জোর-জুলুম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করবেন এবং কেউ কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবেন না। শত বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সবাই মিলেমিশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু দিনাজপুর-৬ আসন নয়, সারা দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবেন। সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি এবং এই পরিচয়কে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাউকে অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, দখল বা চাঁদাবাজির শিকার হতে দেওয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ড সরকার কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুনসহ বিএনপি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।










