বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক কোচের অভিযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও হুমকির পাশাপাশি কম সময়ের কারণে পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন জেরার্ড জোনস। বরখাস্তের চার দিন পর বাংলাদেশে নিজের সময় ও বিদায়ের প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তিনি। তার দাবি, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ, তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জোনস এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফুটবলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং হত্যার হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিজেকে স্বামী, বাবা ও সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এমন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়। ওই ম্যাচের পরদিন, ৪ সেপ্টেম্বর, জোনসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে তাকে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বাফুফের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ফলাফল বিপর্যয়ের পাশাপাশি গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে জোনসের অপ্রীতিকর ঘটনাও তার বিদায়ের অন্যতম কারণ। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়। পরে জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।
তবে বাংলাদেশে নিজের কাজকে শুধু মাঠের ফলাফল দিয়ে বিচার করতে রাজি নন জোনস। তার ভাষ্য, যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো নিয়েও মত দিয়েছেন সাবেক এই কোচ। তার মতে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি এবং উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।










