টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ভালো মানের ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময় ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে দাম নেমে হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। এর একদিন পরই আবার দাম বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলো।
স্বর্ণের পাশাপাশি অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে মজুরি প্রযোজ্য হবে। বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
পুরোনো স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ কর্তন করে পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জ করা যাবে। আর পুরোনো অলংকার পারচেজ বা বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে আজ দেশের বাজারে নতুন মূল্যেই স্বর্ণের অলংকার কেনাবেচা হবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে দাম আবারও পরিবর্তন হতে পারে।










