টাঙ্গাইলের মধুপুরে সম্পত্তির হিস্যা দাবি করে না পেয়ে দাদা দাদির থাকার ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গারো যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আগুন দেওয়ার আগে ওই যুবক তার বৃদ্ধ দাদা দাদিকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ঘরে থাকা ধান চাল, কাপড়চোপড়, বাসনকোসন ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
রোববার ভোররাতে মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ ধরাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম গিটিস নকরেক। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গিটিস নকরেকের আত্মীয় অবিনাশ নকরেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গারো সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক রীতি অনুযায়ী পরিবারে সম্পত্তির মালিকানা মায়ের হাতে থাকে। গিটিসের মা শাপলী নকরেক প্রায় এক যুগ আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। তার মেয়েরা বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে গিটিসের বৃদ্ধ দাদা সনেন্দ্র চিরান ও দাদি সীতা নকরেক বাড়িতে থাকেন।
অবিনাশ নকরেকের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে গিটিস তার মায়ের সম্পত্তির অংশ নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দাদা দাদিকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে গারো ভূমি আইন অনুযায়ী তিনি ওই সম্পত্তির অংশ পাবেন না বলে তাকে জানানো হয়। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার ভোররাতে সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে দাদা দাদির সঙ্গে গিটিসের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি তাদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন অবিনাশ নকরেক।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এর মধ্যে ধান চাল, পোশাক, রান্নার ও গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী এবং আসবাবপত্র ছিল। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দাদা দাদির ওপর হামলা এবং ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গিটিস নকরেকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।










