নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, শুষ্ক বাতাস, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার এর অন্যতম কারণ। তাই শীতের অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।
মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক পাতলা এবং এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই। ফলে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। সঠিক যত্নের অভাবে শুষ্কতা থেকে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হতে পারে।
কেন ফাটে ঠোঁট?
বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠোঁট শুষ্ক হতে পারে। অনেকেই ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিভ দিয়ে ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ ছাড়া কিছু লিপস্টিক, সুগন্ধিযুক্ত লিপবাম ও টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।
শরীরে আয়রন বা ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি, একজিমা এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার সঙ্গেও ঠোঁটের শুষ্কতা বা কোণে ফাটলের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটার লক্ষণ দেখে পুষ্টির ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না।
ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়
১. লিপবাম ব্যবহার করুন: সুগন্ধি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা লিপবাম নিয়মিত লাগান। রাতে ঘুমানোর আগেও ব্যবহার করতে পারেন।
২. ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা থেকে বিরত থাকুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন এবং দীর্ঘ সময় পানিশূন্য অবস্থায় থাকবেন না।
৪. রোদ থেকে সুরক্ষা নিন: বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার লিপবাম ব্যবহার করুন।
৫. ক্ষতিকর প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন: কোনো পণ্য ব্যবহারে ঠোঁটে জ্বালা বা শুষ্কতা বাড়লে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।
সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁট না সারলে, তীব্র ব্যথা হলে কিংবা ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক অভ্যাসে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।










