জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোলের কারণে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কী বক্তব্য দিয়েছেন, তা তিনি শুনতে বা বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার এবং অন্য সদস্যদের সেই বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য তার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দাঁড়িয়েছেন এবং সভাপতির আসন থেকে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্যের সবকিছু সঙ্গত নাও হতে পারে, আবার গুরুত্বপূর্ণ কথাও থাকতে পারে। কিন্তু হট্টগোলের কারণে তার বক্তব্য ঠিকভাবে শোনা যায়নি।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, সংসদে একজন সদস্যের বক্তব্য শোনার দায়িত্ব যেমন অন্য সদস্যদের রয়েছে, তেমনি নিজের মতামত প্রকাশের অধিকারও ওই সংসদ সদস্যের রয়েছে। কোনো সদস্য বক্তব্যে অসংসদীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বললে সেটি স্পিকারের আসন থেকে রুলিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও ওই বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন।
তবে কোনো সদস্যের বক্তব্য হট্টগোলের মাধ্যমে পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া বা তাকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্য প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার পরও যদি তার বক্তব্য অন্যদের শোনা সম্ভব না হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার বক্তব্য রাখার অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হলো। একই সঙ্গে এমন বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে কীভাবে রেকর্ড হবে, সেটিও স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আগের দিনও সংসদে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাই বিষয়টির কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন। সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রত্যেক সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার বক্তব্যে মূলত সংসদীয় পরিবেশে মতপ্রকাশের অধিকার, বক্তব্য শোনার সুযোগ এবং অধিবেশনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।










