সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে কোন ডিসেম্বর মাসে ফিরবেন, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় ও সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের বিষয়ে ঘোষণার দাবি জানান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের সফলতা শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হুইপ দুলু।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে স্পষ্ট করে জানাতে হবে তিনি কোন ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবেন। তার ভাষায়, জীবনে অনেক ডিসেম্বর, রোজা, ঈদ, পূজা ও বর্ষাকাল চলে গেছে। তাই ২০৩০ সালের ডিসেম্বর, নাকি আরও পরে কোনো ডিসেম্বর, সেটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা কোন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসবেন, সেটিও ঘোষণা করা উচিত। জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দুলু বলেন, আন্দোলনে নিহত ছাত্র ও জনতার রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন এবং গত ১৭ বছরে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলো বিচার প্রত্যাশা করছে।
দুলু বলেন, অতীতের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মানুষের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হুমকি বা ভয় দেখিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আলোচনা সভায় সরকারের গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন হুইপ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত কাজ করছেন এবং সরকারি প্রটোকল এড়িয়ে চলছেন।
দুলুর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈষম্য না রাখার নীতি অনুসরণ করছেন। একজন রিকশাচালক ও একজন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক মর্যাদা সমান, এমন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে দুলু বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষক ঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড চালু এবং অসহায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ছয় মাসে কোনো মানুষ গুম হয়নি দাবি করে হুইপ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো বা আটকে রেখে গুম করার মতো ঘটনা ঘটছে না। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানান দুলু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহমুদা হাবীবা বলেন, সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। ঋণের সুদের চাপ কমিয়ে আনতেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হজযাত্রীদের উদ্বৃত্ত অর্থ তাদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. এছাহক আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেস দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাদিরুজ্জামান মন্ডলসহ অন্যরা।










