আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, তিনি ‘ঘুপচি রাজনীতিতে’ বিশ্বাস করেন না। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সৎ সাহস থাকলে বিদেশে পালিয়ে না থেকে দেশের আইন ও আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত সরকারের সময় পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা এবং দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগেরও হিসাব বাংলাদেশের মাটিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে আইন-আদালতের মাধ্যমে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইন ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। সৎ সাহস থাকলে দেশে থেকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কখনো সার, কখনো বিদ্যুৎ কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাহিদ হোসেন।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে অনির্বাচিত সরকার, রাতের সরকার, বিনা ভোটের সরকার এবং ডামি নির্বাচনের সরকার দেখেছে। এসব সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. জাহিদ বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনর্বাসনের জন্য মাঠে ছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এত প্রতিকূলতার পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
এদিকে মতবিনিময় সভার আগে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয় নিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ডা. জাহিদ হোসেন।










