স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কাটাতে থেরাপি ও পুনর্বাসনের সহায়তা নিচ্ছেন।
লন্ডনের বাসিন্দা মারিওস জানান, কোনো কোনো দিন তিনি ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফোন ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে ১২ সেশনের একটি থেরাপি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, ফোন সবসময় কাছে থাকায় এটি ব্যবহার করার তাগিদ এড়িয়ে চলা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন-আসক্তি এখনো আনুষ্ঠানিক রোগ হিসেবে স্বীকৃত না হলেও এর প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। এক জরিপে ৭০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ফোন ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের মধ্যেই ফোন-নির্ভরতার সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।
প্রধান থেরাপিস্ট কেলি ওয়াটসনের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বার্তা বা ‘লাইক’ পাওয়ার সঙ্গে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হয়, যা মানুষকে বারবার ফোন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। ফলে ধীরে ধীরে এটি আসক্তিতে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাকিত্ব, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ অনেক সময় অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের মূল কারণ। তাই কেবল ফোন দূরে রাখাই যথেষ্ট নয়; বরং সমস্যার উৎস চিহ্নিত করে বই পড়া, শরীরচর্চা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং স্ক্রিন-টাইম সীমিত করার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

