ইরানের ওপর আরও কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে নিজেদের শর্তে আলোচনায় আনতে নতুন ও সৃজনশীল কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে অভিনব কৌশল ও পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি সামরিক মহলে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এমন সংবেদনশীল বিষয়ে সাধারণত উন্মুক্তভাবে মতামত চাওয়া হয় না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে প্রচলিত সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্পগুলো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স জানিয়েছেন, নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী চিন্তা সংগ্রহ করা তাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অংশ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প কৌশলের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযানে কোনো স্থায়ী কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও সৌদি আরবের যুবরাজসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
সিআইএ ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান বিমান হামলা ইরানের অবস্থান বদলাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও স্বীকার করেছেন, কেবল বিমান শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
বিশেষ করে ইরানের মাটির গভীরে নির্মিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনায় কার্যকর হামলার জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই ব্যয়বহুল হতে পারে।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটন একদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলেও, অন্যদিকে নতুন কৌশল খুঁজে সংঘাতকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার পথ অনুসন্ধান করছে।

