বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় সড়কের পাশে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন যাত্রী।
রোববার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নিহত দুজন হলেন বাসের চালকের সহকারী বা হেলপার নয়ন এবং বাসের এক যাত্রী মাসুদুর রহমান। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগেই পাথরবোঝাই ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের একটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে বিকল হয়ে যায় এবং তখন থেকেই সেটি সড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বিকল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকায় তা অন্য যানবাহনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এমন অবস্থায় জয়পুরহাট থেকে ঢাকাগামী যমুনা লাইন পরিবহনের বাসটি দ্রুতগতিতে চলার সময় ট্রাকটির পেছনে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে, যার ফলেই বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বাস থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহও উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং নিহত দুজনের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সাজ্জাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে বাসচালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি সময়মতো দেখতে পাননি, যার ফলেই এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট বাস ও ট্রাক উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় জব্দ করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাসড়কে বিকল যানবাহন দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং তার জন্য উপযুক্ত সতর্কসংকেত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে মহাসড়কে টহল ও নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন তারা।

