স্পেনে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করেছিলেন মরক্কোর নারী ফুটবলার ফাতেন বেন আমার এল আজিজি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারালেন মাত্র বিশ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার। স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সাগরপথে সীমান্ত অতিক্রমের ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মরক্কোর একটি জনপ্রিয় ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট জানিয়েছে, গত শনিবার সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ফাতেনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে তিনি পানিতে ডুবে মারা যান।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন মরক্কো ও স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতার সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভিবাসন সংকট ক্রমেই তীব্র রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বা সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এই বিপজ্জনক যাত্রায় ইতিমধ্যে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায়।
ফাতেনের নিজ ক্লাব মাগরেব অ্যাথলেটিক তেতোয়ান এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফাতেন কোনো খ্যাতি বা রোমাঞ্চের সন্ধানে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেননি, বরং তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সীমান্তের ওপারে গিয়ে একটি স্থিতিশীল ও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং নতুন করে জীবন শুরু করা।
ফাতেনের অকালমৃত্যুর খবরে মরক্কোর গোটা ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দেশটির পেশাদার ফুটবলার ইউনিয়ন এক শোকবার্তায় ফাতেনের পরিবার, ঘনিষ্ঠ স্বজন, সতীর্থ খেলোয়াড় এবং মাগরেব অ্যাথলেটিক তেতোয়ান ক্লাবের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এই কঠিন ও শোকাবহ সময়ে তারা ফাতেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে তারা প্রয়াত ফুটবলারের আত্মার শান্তি কামনা করে এবং তার পরিবারের সদস্যরা যেন এই অপরিসীম শোক সহ্য করার মানসিক শক্তি পান, সে জন্য প্রার্থনা জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে ইউরোপে প্রবেশের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করা অভিবাসীদের করুণ পরিণতির বাস্তবতা, যেখানে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখা অনেক তরুণ-তরুণীর যাত্রা শেষ হয় অকাল মৃত্যুতে।

